
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শান্ত পাল (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলার অপর আসামি আনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরের দিকে কালিয়াকৈরের সফিপুর আহম্মদনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তরুণী ময়মনসিংহের একটি কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য তিনি ময়মনসিংহের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করছিলেন।
গ্রেফতার শান্ত পাল কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাচাইল এলাকার সুনীল চন্দ্র পালের ছেলে। তিনি কালিয়াকৈরের সফিপুর আহম্মদনগর এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন এবং স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
কী ঘটেছিল
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আত্মীয়তার সূত্রে ওই তরুণীর গ্রামের বাড়িতে শান্ত পালের যাতায়াত ছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
রোববার সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো কোচিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন ওই তরুণী। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে শান্ত পাল তার সহযোগী আনোয়ার হোসেনের সহায়তায় তাকে কালিয়াকৈরে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টার দিকে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন শান্ত পাল। এরপর তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে শান্ত পাল অ্যাম্বুলেন্সে করে তরুণীর মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান।
পরিবারের সন্দেহ, গ্রেফতার যুবক
বাড়িতে গিয়ে শান্ত পাল পরিবারের সদস্যদের জানান, তরুণীর খিঁচুনি ওঠার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে তার কথাবার্তায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তরুণীর মরদেহ ও পোশাকে রক্তের চিহ্ন দেখতে পান তারা। এ বিষয়ে শান্ত পালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করেন বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন।
খবর পেয়ে ভালুকা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
এরপর সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে নিহত তরুণীর বাড়ি থেকে শান্ত পালকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি শান্ত পালকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি।
ওসি আরও বলেন, মামলার অপর আসামি আনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। নিহত তরুণীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তসহ অন্যান্য তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।

































