
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউরোপের শেনজেন ভিসার আদলে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে একটি ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পর্যটকদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েত—এই ছয় দেশে আলাদা ভিসার পরিবর্তে একটি সমন্বিত পর্যটন ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হবে।
‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগকে মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। জিসিসির সদস্য দেশগুলোকে একটি অভিন্ন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
এক ভিসায় ছয় দেশ
প্রস্তাবিত ভিসা ব্যবস্থার আওতায় একজন বিদেশি পর্যটক একটি ভিসা নিয়ে জিসিসির ছয় সদস্য রাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে পারবেন। দেশগুলো হলো—সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েত।
জিসিসির এই উদ্যোগকে ইউরোপের শেনজেন ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। শেনজেন ভিসার মাধ্যমে যেমন একাধিক ইউরোপীয় দেশে ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া যায়, তেমনি নতুন জিসিসি ভিসা চালু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলেও একই ধরনের ভ্রমণ সুবিধা তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশিদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশি পর্যটক, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী ভ্রমণকারীদের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। বর্তমানে এসব দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে দেশভেদে আলাদা ভিসা ও আনুষ্ঠানিকতা প্রয়োজন হতে পারে। ফলে একটি সমন্বিত ভিসা ব্যবস্থা চালু হলে ভবিষ্যতে ভ্রমণ পরিকল্পনা আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে যারা একই সফরে দুবাই, দোহা, রিয়াদ, মাসকাট, মানামা ও কুয়েত সিটি ঘুরতে চান, তাদের জন্য এ ব্যবস্থা সময় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে পারে।
কবে চালু হবে?
জিসিসির একীভূত পর্যটক ভিসা বাস্তবায়নের উদ্যোগ ইতোমধ্যে অনুমোদনের পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এর পাইলট ধাপ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গভাবে ভিসা চালুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে ২০২৬ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ‘এক ভিসায় ছয় দেশ’ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এসেছে।
ভ্রমণপ্রত্যাশীদের সতর্কতা
তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হলেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা পাওয়ার অধিকারী হবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা এখনো নেই। আবেদনযোগ্যতা, ভিসার মেয়াদ, ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং কোন দেশের নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে।
তাই ভিসা চালুর আগে কোনো এজেন্ট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ‘গ্যারান্টি ভিসা’ বা আগাম অর্থ প্রদানের প্রস্তাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ঘোষণা এলে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন এই ভিসা ব্যবস্থার আবেদন প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য খরচ ও শর্ত আরও স্পষ্ট হবে।































